রবিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

করোনা মোকাবেলায় অদম্য দুই যোদ্ধা ইউএনও দম্পতি মাহাবুর রহমান ও তাসলিমা আলী

করোনা মোকাবেলায় অদম্য দুই যোদ্ধা ইউএনও দম্পতি মাহাবুর রহমান ও তাসলিমা আলী

মোঃ জামাল মল্লিকঃ বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া মরণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শরীয়তপুর সদর ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা চষে বেড়াচ্ছেন করোনাযুদ্ধের অদম্য দুই যোদ্ধা ইউএনও দম্পতি মোঃ মাহাবুর রহমান শেখ ও মোসা: তাসলিমা আলী।

কাজের ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন সকালে থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রধান প্রধান হাটবাজার ও শপিংমলগুলোতে নিজ হাতে মাইকিং করে করোনা সংক্রমণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, করোনা আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন, অসহায়দের বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াসহ উপজেলাকে করোনা মুক্ত রাখতে সকল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা ।

জানা যায়, ৮ ই মার্চ বাংলাদেশে শুরু হওয়া কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রতিরোধে অবিরাম ছুটে চলেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুর রহমান শেখ এবং তার সহধর্মিণী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোসা: তাসলিমা আলী। করোনার শুরুতেই লকডাউনে প্রবাসীসহ সাধারণ জনগণকে ঘরে রাখা, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা, কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন অমান্যকারীদের ঘরে ফেরানোর কাজ করেন তারা। দেশের এমন পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত কিংবা অসহায় মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ এসব মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কাজ করছেন ইউএনও এই দম্পতি । ত্রাণ নিয়ে ছুটে চলেছেন মানুষের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জায়গাতে।

তাদের দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে তারা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বাসায় থাকছে শিশু সামান্থা ও জোহানা। তাদের বাবা মোঃ মাহাবুর রহমান শেখ শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মা তাসলিমা আলী মুকসুদপুরের ইউএনও। বাবা মাহাবুর রহমান শেখ গত এপ্রিলের পর আর বাড়িতে যাননি। শরীয়তপুর সদর উপজেলাকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে সন্তানদের কাছ থেকে পুরোপুরিই বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছেন মাহাবুর রহমান । আর মা তাসলিমা আলী সকালে কর্মক্ষেত্রে যান, ফেরেন সেই রাতে। ফলে ঘরবন্দী দুই শিশুর সঙ্গী শুধু গৃহপরিচারিকা।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোসা: তাসলিমা আলী ভোরের পাতাকে বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিবার পরিজন থেকে কিছুটা দূরে থাকতে হয়।সন্তানদেরও গুণগত সময় দেওয়ার পরিমাণ সীমাবদ্ধ করতে হচ্ছে। তবে সব সময় মনে হয়, দেশের মানুষদের জন্য যদি কিছু করতে পারি সেটাই বড় স্বার্থকতা।দেশের জন্য কাজ করছি-এটা যখন মনে হয় তখন সমস্ত কষ্ট লাঘব হয়ে যায়। দেশ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে,এখন আমাদের সময় দেশের জন্য কাজ করার। নিজে সুস্থ থেকে,দেশের জন্য,দেশের মানুষের জন্য যেনো কাজ করে যেতে পারি,সবসময় এই প্রার্থনা করি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুর রহমান শেখ ভোরের পাতাকে বলেন, সারা বিশ্বের ন‍্যায় বাংলাদেশও এক অভূতপূর্ব দুর্যোগ মোকাবেলা করছে। এ কঠিন সময়ে মানুষের পাশে থেকে কাজ করার মধ‍্যেও ভালো লাগার একটা অনুভূতি আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনগণকে সচেতন করা ছাড়াও, কোয়ারিন্টিনে, আইসোলেশনে রাখার মতো কঠিন কাজটি সার্বক্ষণিক করে যাচ্ছি। এ ক্রান্তিলগ্নে করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতিরোধে কাজ করাটাকে পবিত্র দায়িত্ব বোধ করি। এ সময়ে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে সত্য, অনেক সময় খারাপ লাগে, পরক্ষণেই আবার ভালো লাগে যখন ভাবি যে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করছি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য