শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

সোহেল হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু সবই যেন রহস্য

সোহেল হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু সবই যেন রহস্য

শরীয়তপুর সদর উপজেলার উপরগাঁও গ্রামের সোহেলকে খুন করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন নিহতের মা সাভানা বেগম ও স্বজনরা।

ঢাকায় বসবাসরত সাভানা পুত্র-স্বজনদের নিয়ে বাবা ইয়াকুব হাওলাদারের বাড়িতে প্রত্যেক বছর ঈদ করতে গ্রামে আসেন। জানা যায়, গত ঈদুল ফিতরের চার দিন পর শুক্রবার দুপুরের দিকে (২৯ মে ২০২০) ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চান্দনী গ্রামের মোতালেব খানের ছেলে ইমন খান (২১) ও আংগারিয়া ইউনিয়নের নীলকান্দি গ্রামের সিরাজ সরদারের ছেলে সোহেল সরদার(২৫) নামে দুই যুবক সাভানা বেগম ও মোতালেব মাদবর দম্পতির ছেলে সোহেল মাদবরকে(২৪) ডেকে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর এসে ইমন খান ও সোহেল সরদার সাভানা বেগমকে জানায়, আপনার ছেলে সোহেল মাদবর পানিতে পড়ে গেছে। সাঁতার জানা চব্বিশ বছরের যুবক কি করে ছোট্ট কীর্তিনাশার পানিতে পড়ে মারা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে জনমনে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তিনদিন পর সোহেল মাদবরের মৃত লাশ উদ্ধার করে প্রশাসন।

পুত্র হারিয়ে যখন সাভানা বেগম, মোতালেব মাদবরসহ পরিবারের সবাই যখন দিশেহারা তখন প্রতিবেশী মান্নান সরদার মৃত সোহেল মাদবরের অচেতন ভাই সেলিম মাদবর (২৬) ও ফয়সাল মাদবরের(২৩) নিদাবী স্বাক্ষর নিয়ে লাশ তড়িঘড়ি করে দাফন করে দেয়।

নিহতের মা সাভানা বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সোহেল সরদারের বাবা সিরাজ সরদার ও তার স্ত্রী, কাকা বাবুল সরদার ও তার স্ত্রী এবং আরেক কাকা আবুল সরদার এসে আমার হাতে পায়ে পেঁচিয়ে পরে বলে পোলাপান করে ফেলছে, আমরা কী করব! তুই যে শাস্তি দিবি তাই মেনে নেব। স্থানীয় সালিশ ব্যবস্থা কর।’

নিদাবী স্বাক্ষর করা নিহতের ভাই সেলিম মাদবর ও ফয়সাল মাদবরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, আমরা যখন ভাই হারানোর শোকে অচেতন তখন মান্নান সরদার আমাদের থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে আমরা স্বাক্ষর দিয়েছি, কিসের স্বাক্ষর জানি না৷ যদি জানতাম নিদাবী স্বাক্ষর তাহলে আমরা স্বাক্ষর দিতাম না কারণ বাবা-মা এখনও বেঁচে আছেন, তারা থাকতে আমরা স্বাক্ষর করার কে?

এবিষয়ে ইমন খানের নানা মান্নান সরদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার নাতি ইমন এ কাণ্ডের সহিত জড়িত নয়। আমি সোহেলের লাশ দাফন করেছি এবং তার আত্মার মাখরিতাত কামনায় মিলাদ মাহফিলের ব্যয়ভার বহন করেছি।

ইমন খান ও সোহেল সরদারের কাছে জানার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায় নি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘তারা তখন নিদাবী করে লাশ ময়না তদন্ত করতে দেয়নি, এখন তারা অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য