বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

১০ বছর শিকলে বাঁধা নড়িয়ার শুকুম চৌকিদার

১০ বছর শিকলে বাঁধা নড়িয়ার শুকুম চৌকিদার
মোঃ জামাল হোসেনঃ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের মোঃ শুকুুুম চৌকিদার (২৮) দশ বছর যাবৎ শিকলে বন্দি জীবন যাপন করছেন। বাড়ির পাশে একটি ছোট ছাউনি ঘরে পিলালের সাথে শিকলে বাধাঁ অবস্থায় সারাদিন থাকেন তিনি।বাড়ির এবং পাড়া প্রতিবেশীরা বলছেন।ছোট বেলা থেকেই তার মানসিক সমস্যা।এ থেকে সে পাগল হয়েছে। পরিবারটি এখন সর্বশান্ত প্রায়।নড়িয়ার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের জালিয়াহাটি গ্রামের পিতাঃ আঃ হাশেম চৌকিদার (মৃত) এবং মাতাঃ আনোয়ারা বেগম (মৃত) এর তিন ছেলের মধ্যে শুকুম চৌকিদার ছোট,বড় ভাই রাজমিস্ত্রী এবং ছোট ভাই ভাঙ্গারী মালের ব্যবসায়ী।জানা গেছে তার ভাইয়ের স্ত্রী তাকে খাওয়া দাওয়া এবং দেখাশোনা করেন।  ১০ বছর যাবৎ শিকলে বেধেঁ রাখা হয়েছে তাকে।পরিবারের লোকজন জানান, দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও সুস্থ না হওয়ায় মানসিক ভারসাম্য আরো অবনতি হয়েছে,যার দরুন ১০ বছর যাবৎ শিকলে বাধাঁ রয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসা ও সহযোগীতা পেলে শুকুম চৌকিদার   আবারো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে দাবী স্থানীয়দের।তাদের ঘরবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে সহায় সম্পত্তি যাহা আছে এতে  বাড়ি ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কাটছে শুকুম চৌকিদার এর শিকলে বাধাঁ বন্দি জীবন।তার স্বজনরা জানান,আমরা গরীব,দিন এনে দিন খাই, অতিরিক্ত কোন ভালো কিছু খাবার এনে ওকে কোনদিন খাওয়াতে পারি না।এতে স্থানীয় মেম্বারও কিছু দেয় না।ওর খাওয়া দাওয়ায় তো কম লাগে না,অনেক কস্ট করে চলতে হয়।শুধু সরকারীভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে সামান্য কিছু টাকা পায়।এ বিষয়ে স্থানীয় মোঃ জব্বার আলী বেপারী (৮৭) আঃ মজিদ বেপারী (৬৫) লিটন চৌকিদার (৩৫) তারা বলেন,ওরা অনেক অসহায়,টাকার অভাবে অনেক কিছুই করা যায় না।ভালো চিকিৎসা দিতে পারলে হয়তো সে ভালো হয়ে যেত।এ ছাড়াও বলেন,ওর খাওয়া দাওয়া জামা কাপড় এ গুলোতেও কম খরচ লাগে না,তাই সমাজের বিত্তবানরা যদি ওর জন্য কিছু করতো তাহলে হয়তো ওদের কস্ট থাকতো না।তবে শিকলে বেধে রাখার কারন জানতে চাইলে তার বড় ভাবী পারুল বেগম (৪০) জানান,আমি বাড়ির কাজে ব্যাস্ত থাকি ও আমাদের ঘরের লোকজন প্রতিদিন কাজ করতে চলে যায়,তাই তাকে শিকলে বেধেঁ রাখি নাহলে সে পালিয়ে যায় এবং বিভিন্ন সমস্যা করে।তিনি আরো জানান, যদি টাকা জোগাড় করতে পারি তাহলে তাকে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো এবং তার খাওয়া দাওয়া নিয়েও কোন সমস্যা হতোনা।এমন অবস্থায় তিনি সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য