বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

৯ বছর ধরে শিকলে বন্দী রিতা আক্তারের জীবন

৯ বছর ধরে শিকলে বন্দী রিতা আক্তারের জীবন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের রিতা আক্তার (২৫) নয় বছরেও শিকল বন্দি থেকে মুক্ত হতে পারেনি।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ঘরের পাশে একটি ছোট বাঁশের মাচালে সারাদিন কাটে তাঁর।একা একা নিজে নিজেই কথা বলতে থাকে সে।বাঁশের মাচালের পাশেই একটি গাছের সাথে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় তাকে।বাড়ির লোকজন এবং পাড়া প্রতিবেশীরা বলছেন লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিলো রিতা,স্থানীয় কার্তিকপুর স্কুল থেকে ssc এর জন্য টেস্ট পরীক্ষাও দিয়েছিলো সে, তবে কিভাবে কিসের থেকে এরকম হয়ে গেলো বুঝে উঠতে পারিনি আমরা।তবে তার বাবা মা বলছেন জ্বর হয়েছিল এরপর থেকেই ও এরকম হয়ে গেছে।জানিয়েছেন চিকিৎসা করাতে পারেনি রিতার পরিবারটির আর্থিক অবস্থা দূর্বল বলে।যতটুকু সাধ্য ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে এখন রিতার পরিবারটি সর্বশান্ত প্রায়।নড়িয়ার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ডিঙ্গামানিক গ্রামের পিতাঃ আলাউদ্দিন দেওয়ান (৬৫) এবং মাতাঃ মেহের বানু (৫৫) এর পাঁচ মেয়ের মধ্যে রিতা আক্তার (২৫) চার নাম্বার,সংসারে একটি মাত্র ছেলে আলাউদ্দিন দেওয়ানের তাও আবার বেকার।জানা গেছে রিতার বাবা বয়স বাড়ার কারনে কোন কাজ করতে পারেন না।অভাব অনটনের সংসারে একটি মাত্র ভাই সেও বেকার,এদিকে তাকে খাওয়া দাওয়া এবং দেখাশোনা করেন তার বয়স্ক মা মেহের বানু।ঠিকমতো তিনবেলা খাবার জোগাতেই কস্ট তাদের,চিকিৎসা করাবেন কিভাবে এমনটাই কথা তাদের।৯ বছর যাবৎ শিকলে বেধেঁ রাখা হয়েছে তাকে,পরিবারের লোকজন জানান,টাকার অভাবে চিকিৎসার না হওয়ায় মানসিক ভারসাম্য আরো অবনতি হয়েছে রিতার,যার কারনে ৯ বছর যাবৎ শিকলে বাধাঁ রয়েছে তার স্বপ্ন গুলো।যে বয়সে তার স্বামী সন্তান নিয়ে শশুরবাড়ি একটি সাজানো গুছানো সংসার থাকার কথা,সেখানে ভাগ্য তাকে শিকল বন্দী করে রেখেছে। তবে উন্নত চিকিৎসা ও সহযোগীতা পেলে রিতা আক্তার (২৫) আবারো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে দাবী স্থানীয়দের।তাদের ঘরবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে সহায় সম্পত্তি যাহা আছে এতে একটি ভাঙ্গা ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই। অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কাটছে রিতা আক্তার এর শিকলে বাধাঁ বন্দি জীবন।তার স্বজনরা জানান,আমরা গরীব,দিন এনে দিন খাই, অতিরিক্ত কোন ভালো কিছু খাবার এনে ওকে কোনদিন খাওয়াতে পারি না।এতে স্থানীয় মেম্বারও কিছু দেয় না।ওর খাওয়া দাওয়ায় তো কম লাগে না,অনেক কস্ট করে চলতে হয়। সরকারীভাবে প্রতিবন্ধী ভাতাও নেই তার বলে জানান তার পরিবার।এ বিষয়ে রিতার চাচা মোঃ সোহরাব দেওয়ান (৪৫) বলেন,ওরা অনেক অসহায়,টাকার অভাবে অনেক কিছুই করা যায় না,ভালো চিকিৎসা দিতে পারলে হয়তো সে ভালো হয়ে যেত।এ ছাড়াও বলেন,ওর খাওয়া দাওয়া জামা কাপড় এ গুলোতেও কম খরচ লাগে না,তাই সমাজের বিত্তবানরা যদি ওর জন্য কিছু করতো তাহলে হয়তো ওদের কস্ট থাকতো না।তবে শিকলে বেধে রাখার কারন জানতে চাইলে তার ভাই অন্তর (২১) জানান,শিকলে বেধে না রাখলে মানুষ কে মারধর করে,এছাড়াও বিভিন্ন দিকে চলে যেতে চায় তাই তাকে শিকলে বেধেঁ রাখি নাহলে সে পালিয়ে যায় এবং বিভিন্ন সমস্যা করে।তিনি আরো জানায়, যদি টাকা জোগাড় করতে পারি বা কোন আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা পেতাম তাহলে আমার বোনের  ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং তার খাওয়া দাওয়া নিয়েও কোন সমস্যা হতোনা।এমন অবস্থায় তিনি সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য