শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল চেয়ে শরীয়তপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের খোলা চিঠি

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল চেয়ে শরীয়তপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের খোলা চিঠি

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল চেয়ে শরীয়তপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর বরাবর খোলা চিঠি লিখেছেন। হুবহু তার লেখা তুলে ধরা হলো।

বরাবর,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মাধ্যমঃ মাননীয় জেলা প্রশাসক শরীয়তপুর।

আসসালামু আলাইকুম
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,প্রথমেই আপনার সু স্বাস্থ্য কামনা করছি।মমতাময়ী মা আপনি। ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা কে আশ্রয় দিয়ে ইতিহাসে এক মহান ব্যক্তিত্তের পরিচয় দিয়েছেন।মা আমরা সোনার বাংলার সোনার ছেলে হয়ে বাঁচতে চাই। আপনি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা। আপনি মানবতার মা।মাগো আমি কামাল হোসেন, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কাঠহুগলী গ্রামে আমার জন্ম। আমার বাবা একজন হতদরিদ্র সামান্য দোকানদার। আমাদের পরিবারে ১১ জন সদস্য। একমাত্র বাবা উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমরা চার ভাই অনার্স শেষ করে বর্তমানে বেকার। আমার বাবার পক্ষে আমাদেরকে পড়াশোনা করানোর ক্ষমতা ছিল না, কারন বাবা যে টাকা উপার্জন করেন তাতে আমাদের সংসার ঠিকমত চালানোই দায়। আমরা ৩ ভাই একসাথে ২০১০ সালে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় উর্তীর্ণ হই। ঠিক ঐ সময় আমার বাবা ঋণগ্রস্থ হয়ে পরেন। তারপক্ষে আমাদের পড়ালেখার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পরলে আমার মা আমাদেরকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেন এই ভেবে যে আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে? আমাদের আসন্ন পরীক্ষা অপরদিকে বাবার ঋণ পরিশোধ করতে হবে, কারন পাওনাদাররা বাসায় এসে উল্টাপাল্টা শুরু করেছে। এমতাবস্থায় আল্লাহর রহমতে আমার মামা যিনি আওয়ামিলীগ সমর্থিত ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাদের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন তোমাদের সকল দায়িত্ব আমি নিলাম। তোমরা ৪ ভাই লেখাপড়া করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। তিনি আরো বলেন কখনওই কোন খারাপ কাজে জড়িত হবে না। ইনশাআল্লাহ তোমরা একদিন সরকারি চাকরী করবে। তখন তোমাদের আর কষ্ট থাকবে না। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সৎ পথে থেকে লেখাপড়া করেছি, লেখাপড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি। নড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করছি। ২০০১ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যতগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে সবগুলোতে আলোচিত ভূমিকা রেখেছি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে এজেন্ট ছিলাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও এমন কোন কাজ করিনি যাতে আমার ভালোবাসার দল বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ এর দূর্নাম হয়। ২০১৮ সালে প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ অংশগ্রহণ করে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করি।
মমতাময়ী মা আপনি আপনার বাবার আর্দশে সু শিক্ষায় শিক্ষিত এক সনাম ধন্য ব্যক্তি। আপনি আমাদের ৩৭ হাজার শিক্ষিত বেকার কে সম্মানের সাথে এবং পরিবার নিয়ে ভালো ভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দিন।আমরা আর বেকার থাকতে চাই না।আপনি প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের কে নিয়োজিত রাখার সুযোগ করে দিন।
কামাল হোসেন
সাধারণ সম্পাদক, শরীয়তপুর জেলা শাখা
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮ প্যানেল বাস্তবায়ন কমিটি।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য